৫০০ টাকার জন্য বন্ধুর বাসায় চুরি করতে গিয়ে সুফিয়াকে হত্যা

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুফিয়া হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এ হত্যা করেন গ্রেফতার আরিফুল ইসলাম (১৯)। ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহের মধ্যে এর রহস্য উদঘাটন করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

বুধবার (২ মার্চ) গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতার আরিফুল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

নিহত সুফিয়া (১৮) শ্রীপুর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের মেয়ে। গ্রেফতার আরিফুল ইসলাম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হাসের আলগী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, পোশাক কারখানায় চাকরিকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে আশিকুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুফিয়ার। এর জেরে প্রায় দেড়মাস আগে প্রথম স্বামী মোকাররমকে ডিভোর্স দিয়ে আশিকুরকে বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে সুফিয়া তার দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি মধ্যপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিদিনের মতো স্ত্রী সুফিয়াকে বাসায় রেখে কর্মস্থলে যান আশিকুর। রাত ১০টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে ঘরে নিস্তেজ অবস্থায় সুফিয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে ৯৯৯-এর কল থেকে সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ওই হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড প্রতীয়মান হওয়ায় নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

তিনি জানান, পুলিশ এ ঘটনায় স্বামী আশিকুরকে গ্রেফতার করে। পরে ঘটনার ১২দিন পর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে আশিকুরের বন্ধু আরিফুলকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে নিহতের এক জোড়া সোনার কানের দুল ও রূপার একজোড়া নুপুর জব্দ করে। মঙ্গলবার গ্রেফতার আরিফুল এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি  দেন।

এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, আশিকুরের বেকার বন্ধু আরিফুল চাকরির সন্ধানে ঢাকা যেতে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে যাতায়াত ভাড়া বাবদ ৫০০ টাকা ধার চেয়েও পায়নি। ধার না পেয়ে বন্ধু আশিকুরের বাসায় চুরির সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে ওই বাসায় গিয়ে সুফিয়ার স্বর্ণালংকার রাখা পার্টস (হাত ব্যাগ) চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় সুফিয়া বাথরুম থেকে বের হয়ে আরিফুলকে পার্টস নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখে দা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। আরিফুল নিজেকে সামলে সুফিয়াকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ ফেলে স্বর্ণালংকারসহ ওই পার্টস নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে পার্টসে থাকা কানের এক জোড়া সোনার দুল ও রূপার একজোড়া নুপুর কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রেখে সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। পোশাক কারখানায় চাকরিকালে আরিফুল ও আশিকুরের পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়।