রাজবাড়ীতে কালোজিরা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌয়ালরা

রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে শত শত কাঠের তৈরি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌয়ালরা। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের পর এবার কালোজিরা ফুলের মধু সংগ্রহ করছেন তারা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজবাড়ীতে ৩৯১ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষ হয়েছে। এরই মধ্যে কালোজিরা থেকে মধু সংগ্রহে বিভিন্ন এলাকায় কাঠের তৈরি বাক্স বসিয়েছেন মৌয়ালরা।

বোয়ালমারী থেকে আগত মৌয়াল শাইদুল ইসলাম জানান, মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা আমাদের পেশা। সরিষা ও কালোজিরার ফুল এবং আম ও নিচু বাগানে কাঠের তৈরি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকি। অনেক আগে থেকে রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি, পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ শুরু করেছি। এখন কালোজিরা ফুলের মধু সংগ্রহ করছি। এছাড়া সরিষা ফুলের চেয়ে কালোজিরার মধু কম পাওয়া যায়। কালোজিরার মধু অনেক ভালো। 

মৌয়ালরা জানান, ১৫০টি বাক্স বসানো থাকলে ১০-১২ দিন পর পর মধু ভাঙানো যায়। সেখান থেকে সরিয়া ফুলে ৮-৯ মণ মধু পাওয়া পায়। সরিষা ফুলের মধুর দা, প্রতিমণ ১০-১২ হাজার টাকা। কালিজিরা থেকে ১০-১২ দিনে ১৫০ কাঠের তৈরি বাক্স থেকে ২-৩ মণ মধু ভাঙানো যায়। যার দাম প্রতিমণ ৩০-৩৫ হাজার টাকা।

জেলার পাংশা, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলার একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে মৌয়ালদের বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করতে বাধা দেওয়া হতো। কিন্ত কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে মৌয়ালদের সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। কারণ মধু সংগ্রহ হলে ফসল ভালো হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম শহীদ নুর আকবর জানান, মধু চাষ করলে ফসল ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে মৌমাছি কালোজিরা পরাগায়নে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। রাজবাড়ী জেলায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৯১ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষ হয়েছে। এছাড়া আমরা মৌয়ালদের মধু সংগ্রহের প্রতি সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করি।