গাজীপুরের টঙ্গীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে সোলাইমান (২১) নামে এক চা দোকানি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাত ১০টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত দোকানি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পলসা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুই জন হলেন- টঙ্গী মরকুন তিস্তারগেট এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে সজল মিয়া (২৮) ও নোয়াগাঁও এলাকার বাহরাইলের মৃত জামিল মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২৪)।
টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন জানান, বুধবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় দত্তপাড়া কসাইবাড়ি ও মরকুন পশ্চিম পাড়ার দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হয়। এতে সোলাইমান আহত হন। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তিনি দত্তপাড়া কসাইবাড়ি এলাকার রেল লাইনের পাশে চায়ের দোকান করতো। জোড়া হত্যা মামলার আসামি জুয়েল ও তার ভাই রায়হানের নেতৃত্বে ৫/৭ জন লোক মরকুন পশ্চিম পাড়ার কয়েকজন যুবককে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার জেরে ওইদিন রাত ৮টায় মরকুন পশ্চিম পাড়ার সজল মিয়ার নেতৃত্বে অপরপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দত্তপাড়া কসাইবাড়ি এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় তারা কাউকে না পেয়ে চা দোকানি সোলাইমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে চলে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সোলাইমানকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় মৃত্যু হয়।
নিহত সোলাইমানের মামা নাজমুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর একদল কিশোর ও যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে রেললাইন দিয়ে কসাইবাড়ি এলাকায় প্রবেশ করে। ওই সময় সোলাইমান দোকানের ভেতরেই ছিল। তারা দোকানে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। রেললাইনে প্রায়ই ছিনতাই হয়। প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ীরাও সেখানে আড্ডা দেয়। সোলাইমানের চা দোকানে ভালোমন্দ সব ধরনের লোকজনই আসতো। কিন্তু সে কোনও খারাপ কাজে যুক্ত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘পাশাপাশি এলাকার দুইটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর খবর পয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করবে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’