দুই মেয়ের সন্ধান মিললেও কাছে পাচ্ছেন না ইদ্রিস আলী

প্রায় এক বছর পরে দুই মেয়ে ইতি আক্তার (৯) ও মীম (৫) এর সন্ধান পেয়েছেন ইদ্রিস আলী। তবে কাছে পাচ্ছেন না তিনি। নানী আকলিমা বেগমের কাছেই থাকবে দুই মেয়ে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন বাবা। রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক বেগম সাবিনা ইয়াসমিনের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রকিব উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দুই মেয়ে বাবা ইদ্রিস আলীর কাছে যেতে চাইছে না। তাই আদালত তাদের নানী আকলিমা বেগমের জিম্মায় দিয়েছেন। তবে ইদ্রিস আলী যেকোনও সময়ে দেখা করতে পারবেন, যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আরবী আমান রিয়া বলেন, ইদ্রিস আলীর দুই মেয়ে বাবার কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। যেকারণে আদালত তাদের মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। তবে মেয়ের মা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় মেয়েরা তাদের নানীর কাছে থাকবে। আর বাবা ইদ্রিস আলী যে কোনো সময় তার মেয়েদের দেখে যেতে পারবেন।

এ ব্যাপারে বাবা ইদ্রিস আলীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমার মেয়েরা খুবই ছোট, তারা আমার দুই মেয়েকে ভুল বুঝিয়েছে। যেকারণে মেয়েরা আমার কাছে আসতে চায় না। আমি আমার মেয়েদের কাছে পেতে চাই। আমি মেয়েদের ছাড়া থাকতে পারবো না।

নানী আকলিমা বেগম বলেন, ইদ্রিস আলী কখনও তার মেয়েদের খোঁজ খবর রাখেনি। সে হঠাৎ করে এসে দুই মেয়েকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েরা তার কছে যেতে চায়না। কারণ সে মেয়েদের মারধর করতো। এখনও তার মেয়েরা বাবার কাছে যেতে চাইলে আমার কোনও আপত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, ইদ্রিস আলীর সাথে আমার মেয়ে শাহনাজ বেগমের বিচ্ছেদের পরে তার দুই মেয়েকে নিয়ে আমার কাছে চলে আসে। পরে আমার মেয়ে সৌদি আরব চলে গেলে তার দুই মেয়েকে আমার কাছে রেখে যায়। সেই থেকে তারা আমার কাছে আছে।

এর আগে, ইদ্রিস আলীকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে অলিগলিতে হন্যে হয়ে তার মেয়েদের খুঁজতে দেখা যায়। তিনি জানান, এক বছর আগেও সুখের সংসার ছিল তার। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে নিাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বসবাস করতেন ইদ্রিস আলী (৩৮)। কৃষিকাজের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঢাকায় এসে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আশা ছিল মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে দিবেন। কিন্তু স্ত্রীর উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কোনও এক দালালের খপ্পরে পড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে তার সংসার।

তিনি আরও জানান, একদিন বাড়ি ফিরে দেখেন তার দুই মেয়ে ইতি (৯) এবং মীমকে (৫) নিয়ে স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়ি ছেড়েছেন। এরপর থেকেই তিনি দুই মেয়ের মুখ দেখতে পারছেন না ইদ্রিস আলী। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হলেও তাদের কোনো ঠিকানা জানার সুযোগ হয়নি।

অবশেষে সন্তানদের খোঁজে দিনাজপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে রিকশা চালানো শুরু করেন তিনি। পরে ১০ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানা একটি জিডি করেন। সেই জিডির সূত্র ধরে ১৬ এপ্রিল ইদ্রিস আলীর দুই মেয়েকে খুঁজে বের করে পুলিশ।