৮ ঘণ্টা পর শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু

তীব্র স্রোতে দুর্ঘটনা এড়াতে আট ঘণ্টা বন্ধের পর শরীয়তপুরের সাত্তার মাদবর মাঝিকান্দি ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ জুন) সকাল ৬টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। 

এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় মাঝিকান্দি ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসসহ চার শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও যানবাহনের শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) মাঝিকান্দি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে মাঝিকান্দি-শিমুলিয়া নৌপথে স্রোত বাড়তে থাকে। রাত যত গভীর হয়, স্রোতের তীব্রতা তত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে রবিবার ভোরে তীব্র স্রোতে শরীয়তপুরের টার্নিং পয়েন্টে যাত্রীবাহী দুই চলন্ত ফেরি বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া কামালের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন মারা যান। আহত হন বেশ কয়েকজন। তাই পুনরায় দুর্ঘটনা এড়াতে এই নৌপখে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। স্রোত কমে এলে সকাল ৬টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এই নৌপথে ছোট-বড় ছয়টি ফেরি চলছে।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, ‌‌‘ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত মাঝিকান্দি প্রান্তে চার শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়ে। পারাপার বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ঘাট এলাকায় খোলা জায়গায় বৃষ্টের মধ্যে যাত্রী ও যানবাহনের শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের ভোগান্তি বেশি। শৌচাগারের ও খাবার হোটেলের অভাব ভোগান্তির মাত্র আরও বাড়িয়ে তোলে।’

বিআইডব্লিউটিসি’র মাঝিকান্দি ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে রাত ১০টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। স্রোত কমে আসায় ফেরি চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়িগুলো আগে পারাপার করা হচ্ছে।’

বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের সহ মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্রোতের তীব্রতা কমে যায়। পরে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল থেকে ফেরি কুঞ্জলতা, বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।