১০ বছরেও সন্ধান মেলেনি চট্টগ্রামের স্কুলশিক্ষার্থী তোহেল আহমেদের। জীবিত আছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানে না পরিবার। তবে তোহেল একদিন মায়ের বুকে ফিরবে—এ আশায় পথ চেয়ে বসে আছেন মা।
নিখোঁজ তোহেল আহমেদ (১৬) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ব্রামোত্তর গ্রামের প্রবাসী কোব্বাত আহমেদের ছেলে। ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়।
তোহেল আহমেদের মা বেবী আকতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তোহেল নগরীর চান্দগাঁও থানার সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। নগরীর বহদ্দারহাট চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৬৫ নম্বরের ভাড়া বাসায় চাচার সঙ্গে থাকতো। ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এরপর বাসায় ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ও বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাইনি আমরা।’
বেবী আকতার বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি চান্দগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। যার নম্বর ছিল-১৬৩৪। তাকে খুঁজে দেওয়ার জন্য থানায় থানায় ঘুরেছি। কিন্তু পুলিশ আমার ছেলের সন্ধান আজো দিতে পারেনি। আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। ছেলেরও কোনও শত্রু ছিল বলে জানা নেই। তাকে কেউ হত্যা করে লাশ গুম করে দেবে—এমন কথা ভাবতেও পারছি না। তবে আমার বিশ্বাস, ছেলে বেঁচে আছে। একদিন ছেলে আমার বুকে ফিরবে, মা বলে ডাকবে—সে আশায় বুক বেঁধে আছি।’
তোহেলের বাবা কোব্বাত আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি দুবাইয়ে থাকি। ছেলে নিখোঁজের সময় প্রবাসে ছিলাম। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। একমাত্র ছেলেটি ১০ বছর ধরে নিখোঁজ। সব এলোমেলো হয়ে গেলো। আমি তো কারও কোনও ক্ষতি করিনি। কেন ছেলে নিখোঁজ হবে? হয়তো তাকে অপহরণ করেছে কেউ? কেন করেছে? ঘটনার পর আমার স্ত্রী থানায় জিডি করেছিল। পুলিশ সন্ধান দিতে পারেনি। আমার মনে হচ্ছে, পুলিশের অবহেলার কারণে নিখোঁজের রহস্য উন্মোচন হচ্ছে না। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৩ সালে থানায় নিখোঁজের জিডি হয়েছিল। তখন হয়তো পুলিশ তদন্ত করে ছেলেটির সন্ধান পায়নি। এখনও তদন্ত চলছে কিনা তা আমার জানা নেই। অভিভাবকরা চাইলে মামলা কিংবা আইনি সহায়তা অথবা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নিতে পারেন।’