‘একজন মানুষও না খেয়ে আছে, কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘নির্বাচনে আসেন, নির্বাচনে প্রমাণ হবে। আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নাই। কয়েকটা সমাবেশ করে হুমকি দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে কখনও ক্ষমতায় আসে নাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত ও সম্মানিত। তার নেতৃত্বে বাংলার জনগণ আবারও একটি সরকার দেখতে চায়। অসমাপ্ত কাজ আমরা শেষ করতে চাই।'

রবিবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে দুপুরে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতিহত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি আন্দোলন-সংগ্রাম করতে আসে, আমরা মোকাবিলা করবো। ভোটেও তাদের মোকাবিলা করবো, অতীতেও করেছি, আগামীতেও করবো। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ অতীতেও সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন ছিল, এখনও আছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল, আগামীতেও সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের কাতারে থাকবে।'

দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই। কোনও উন্নয়ন করতে পারে নাই। দেশ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। জঙ্গি-সন্ত্রাসে সারা দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল তারেক রহমান। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবো, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে আনবো। আমরা বলেছিলাম, রাস্তাঘাট ও পদ্মা সেতু করবো। দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করবো। আওয়ামী লীগ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে সবই হয়েছে। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আজকে কার্তিক মাস, এই কার্তিকে বিএনপির আমলে ২০০১, ২০০৩ সালে উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় শত শত মানুষ না খেয়ে থাকতো, মঙ্গা দেখা দিয়েছিল। অথচ গত ১৪ বছরে একজন মানুষও না খেয়ে আছে, কষ্ট আছে, মঙ্গা হয়েছে, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।'

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ সারা পৃথিবী অনিশ্চয়তার মধ্যে টালমাটাল অবস্থায় আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ বিদ্যুতের দাম ৮০ ভাগ বাড়িয়েছে। একজন মন্ত্রী দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া বিএনপির সমাবেশ দেখে বেহুঁশ হয়ে পড়েছে। আবার বোধহয় একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসবে। সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধি মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়ক এলে উপদেষ্টা হবেন, দেশ পরিচালনা করবেন। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন উপজেলায় ও জেলায় সম্মেলন হচ্ছে। আজ নারায়ণগঞ্জের সম্মেলন, বিএনপির সম্মেলন ও সমাবেশ থেকে এই সমাবেশ ছোট না। এর চেয়ে অনেক বড় সমাবেশ আমরা প্রতিদিন করতে পারি। আওয়ামী লীগের ভিত্তি হলো জনগণ।'

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব কামাল হোসেন এবং শ্রমিক লীগের সদস্য হাজী রহমত উল্লাহ প্রমুখ।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ মো. বাদল।