মুক্ত হলেন মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন অবশেষে মুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যালয় থেকে বের হন। এর আগে বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন।

জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে চাকরি স্থায়ী করাসহ ১৪ দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি ভিসি বরাবর দেওয়া হয়। কিন্তু কর্মচারীদের স্মারকলিপির বিষয়টি আমলে না নিয়ে ২ নভেম্বর কেয়ারটেকার পদের নিয়োগ বোর্ড রাখায় কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উপাচার্যকে নিজ কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করেন।

এই বিষয়ে কর্মচারী ও শিক্ষকদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোনও সমাধানে আসতে পারেনি উভয় পক্ষ। এরপর শুক্রবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসিকে মুক্ত করতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া তিনি বের হতে রাজি হননি। এরপর তিনি দুপুরে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠক চলে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত।

এদিকে আন্দোলনকারী কর্মচারীরা জানান, বারবার তাদের দাবির কথা জানিয়েও আদায় না হওয়ায় উপাচার্যকে ভেতরে রেখে তার কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী ও তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার রাতে তালা খুলে দিয়েছিলাম। এরপরও তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি আজ দুপুরে কার্যালয় থেকে বের হন। আমাদের ১৪টি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

উপাচার্য ফরহাদ হোসেন বলেন, তাদের দাবি অযৌক্তিক। আগের উপাচার্য থাকাকালে পোস্ট ছাড়াই তারা এডহকে নিয়োগ পেয়েছিল। ইউজিসি কর্তৃপক্ষকে বলে ২২টি পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে তাদের জানানো হলেও তারা তাদের অবস্থানে অনড় ছিল। তবে এখন কার্যালয়ে তালা না থাকায় এবং তাদের কারও উপস্থিতি না থাকায় সেখান থেকে বের হয়েছি।