কাজ না শেখানোয় মিস্ত্রিকে হত্যা, আটক ২

গাজীপুরের টঙ্গীতে কাজ না শেখানোয় রাকিব (২০) নামে এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রিকে হত্যার অভিযোগে তার দুই সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) টঙ্গী পশ্চিম থানার মুদাফা এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়ির প্রবেশপথ থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করে পুলিশ। রাকিব ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুর এলাকার শেখ খলিলুর রহমানের ছেলে। 

আটককৃতরা হলো-রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আসলাম খানের ছেলে শাহেদ খান (১৮) এবং একই উপজেলার মনসের খাড়াগাড়া গ্রামের এক কিশোর (১৭)। শাহেদকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মুদাফা এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় মাদ্রাসা মার্কেটের ডিকে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি ওয়ার্কশপ কারখানায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির কাজ করতেন রাকিব। ওই ওয়ার্কশপে শাহেদ ও এক কিশোরসহ কয়েকজন হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। বেশকিছু দিন ধরে রাকিবকে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির কাজ শেখানোর অনুরোধ করে আসছিল শাহেদ ও আরেক অভিযুক্ত কিশোর। কাজ না শেখানোয় রাকিবের ওপর ক্ষুব্ধ হয় তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। 

বৃহষ্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শেখানো নিয়ে রাকিবের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর জেরে গভীর রাতে রাকিবকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করে তারা। লাশ বস্তাবন্দি করে নুরুল ইসলামের বাড়ির প্রবেশপথে ফেলে রাখে। শুক্রবার সকালে ফেলে রাখা ওই বস্তা থেকে রক্ত বের হতে দেখে পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বস্তা থেকে রাকিবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ওসি শাহ আলম জানান, এ ঘটনায় রাকিবের চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এরপর হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করে শাহেদ। তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অপরজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।