কিশোরগঞ্জ সদরের সগরা এলাকার আলোচিত সোহান আহম্মেদ আলিফ (২৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার কথা স্বীকার করে রবিবার (০২ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।
এর আগে গত ২৮ মার্চ রুপার বিছা চুরির সন্দেহে আলিফকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছিলেন আসামিরা। রবিবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল-আমিন হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা মো. শ্যামল মিয়া এজাহারনামীয় আসামি আনন্দ (১৮) ও হুমায়ুন কবিরকে (২৮) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠান। রবিবার সকালে মামলার মূল আসামি মাসুদকে মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাষ্করখিলা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, হত্যার আগে সেবনকৃত ঘুমের ট্যাবলেটের খালি পাতা, কাশির সিরাপের বোতল, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠি ও লাশ গুমের জন্য গর্ত খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত দুটি কোদাল উদ্ধার করা হয়।’
আল-আমিন হোসাইন আরও বলেন, ‘মাসুদ তার ভাগনকে উপহার দেওয়ার জন্য কেনা রুপার বিছা চুরির সন্দেহে আলিফকে ডেকে নিয়ে সহযোগীদের নিয়ে রাতের আঁধারে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশ মাটিচাপা দেন। হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।’
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২০ মার্চ দুপুরের খাবার খেয়ে দর্জির দোকানে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন আলিফ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৮ মার্চ কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় আলিফের মা হাওয়া আক্তার নিখোঁজের ডায়েরি করেন। ২৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উলুহাটি গাউসুল আজম গোরস্থানের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর নিহতের মা পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ছয়-সাত জনকে আসামি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।