বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

দুই মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে কেয়া গ্রুপের ‘কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড’ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর এবং কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক বেশ কিছু সময় অবরোধ করে রাখে।

সোমবার (৩ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত মহানগরীর কোনাবাড়ি (জরুন) এলাকায় ওই কারখানার শ্রমিকরা এসব কর্মসূচি পালন করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। 

শিল্প পুলিশ, আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানায়, কেয়া গ্রুপের কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা তাদের পাওনা গত দুই মাসের (ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) বকেয়া বেতন, এক বছরের ছুটি ও ঈদ বোনাসের টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিল কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। শ্রমিকদের দাবির মুখে তাদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার তারিখ দিলেও পরিশোধ করেনি। গত ১৯ মার্চ শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ তারিখে বেতন পরিশোধ না করে পরবর্তী তারিখ ২৩ মার্চ ধার্য করে মালিকপক্ষ। এ দিনেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে পুনরায় আবার ২৯ মার্চ নির্ধারণ করে। শ্রমিকরা এ দিন তাদের পাওনাদির জন্য দিনভর অপেক্ষা করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেনি। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে সর্বশেষ কারখানা কর্তৃপক্ষ নিটিং সেকশনের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ৩০ মার্চ এবং সুইং, ফিনিশিং ও আয়রন সেকশনের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ২ এপ্রিল পরিশোধের আশ্বাস দেয়। সর্বশেষ নির্ধারিত দিনেও বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় রবিবার (২ এপ্রিল) রাতে শ্রমিকরা কারখানার ভেতর অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানার সিসি ক্যামেরা, জানালা ও গ্লাস ভাংচুর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড পোশাক শ্রমিক অসন্তোষ

পরদিন সোমবার (৩ এপ্রিল) সকালে বিভিন্ন শিফটের শ্রমিকরা কারখানার গেটে এসে জড়ো হতে থাকে। তারা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। সকাল ১০টা পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়কের ওপর থেকে কারখানায় ফিরিয়ে আনে। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি’র) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন জানান, রবিবার রাত থেকেই শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে কারখানার পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক সড়কে দিনভর যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। আন্দোলনরত শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন সোমবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পরিশোধের কথা থাকলেও পরিশোধ করেনি। এক পর্যায়ে শ্রমিক অসন্তোষের মুখে সন্ধ্যায় তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে শ্রমিকরা মার্চ মাসসহ অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যার পর হতে রাত পর্যন্ত কারখানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।