‘গত ঈদে লেগেছিল ছয় ঘণ্টা, এবার ১ ঘণ্টা’

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক এখন ফাঁকা। যাত্রীদের চাপ কমে যাওয়ায় হাতেগোনা কয়েকটি যানবাহন চলাচল করছে। অনেকক্ষণ পর পর গাড়ির দেখা মিলছে। যারা এখন বাড়ির পথে আছেন তারা অনেক স্বস্তিতে ফিরছেন। যাত্রীরা বলছেন, গত ঈদে ছয় ঘণ্টায় যে পথ গেছেন, এবার এক ঘণ্টায় যাচ্ছেন সেই পথ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। এই যানজট শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ছিল। এরপর যানজট কমতে থাকে। বেলা ১১টার পর থকে মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে যায়। 

শুক্রবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, কিছুক্ষণ পর পর দুই-একটি বাস ও প্রাইভেটকার আসছে। সর্বোচ্চ গতিতে চলছে এসব যানবাহন। এ ছাড়া মহাসড়কের কোথাও কোনও গাড়ির জটলা নেই।

হাইওয়ে পুলিশ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন উত্তরবঙ্গবাসী। 

যাত্রীদের অভিযোগ, এই ১৩ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে এক-দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। এই সময়ে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়েছে নারী-শিশুদের। 

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, সেতু ও মহাসড়কে গাড়ি বিকল ছাড়াও ছোট ছোট দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সকালে তা নিরসন হয়ে গেছে। দুপুর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মহাসড়ক ফাঁকা রয়েছে। 

এদিকে, উত্তরবঙ্গগামী পরিবহনের চাপ কমে যাওয়ায় সড়ক ফাঁকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। এ জন্য ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন তারা।

বেলা ১১টার পর থকে মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে যায়
 
মাসুদ নামে এক বাসযাত্রী বলেন, ‌‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গাইবান্ধায় ঈদ করতে যাচ্ছি। আমি সকাল সাড়ে ১০টায় নবীনগর থেকে বাসে উঠেছি। মাত্র দেড় ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় সল্লা পর্যন্ত এসেছি। রাস্তায় যানজট পাইনি। ভোগান্তি ছাড়াই এ পর্যন্ত এসেছি। গত বছর রোজার ঈদে এই পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছিল ছয় ঘণ্টা।’

রনি নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমি সকাল সোয়া ৯টার দিকে গাবতলী থেকে বাসে উঠেছি। দুপুর ১২টায় বঙ্গবন্ধু সেতুরপূর্বপাড় সল্লা পর্যন্ত এসেছি। এ পর্যন্ত আসতে কোনও যানজট পাইনি। ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি।’

আরেক যাত্রী নূর আলম বলেন, ‘অন্যান্য বছর ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজটে আটকে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। কিন্তু এবার ঈদযাত্রায় কোনও ভোগান্তি ছাড়াই বাড়িতে যেতে পারছি। শুনেছি যানজট নিরসনে  পুলিশের অনেক প্রস্তুতি ছিল। বিষয়টি ভালো লেগেছে।’

মহাসড়কের সল্লায় দায়িত্বর হাইওয়ে পুলিশের এসআই আইয়ুব আলী বলেন, ‘সকালের দিকে মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় পর্যন্ত যানজট ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন কমতে থাকে। এখন সড়ক ফাঁকা, তেমন যানবাহন নেই।’