নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রহিমা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৫ মে) বিকালে এই কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার ওই কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কারখানার সাত জন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে একে একে শ্রমিক শংকর (৪০) ইলিয়াস (৩৫) নিয়ন (২০) ও আলমগীরের মৃত্যু হয়। রাব্বি (৩৫), ইব্রাহিম (৩৫) ও জুয়েল (৩৫) চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্ন ওঠে কারখানাটির ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে। আজ বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হকের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তখন কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।
কমিটিতে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেনকে সদস্য করা হয়।
ইউএনও ফয়সাল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ছাড়পত্রের কাগজ রয়েছে। সরকারি কয়েকটি দফতর মিলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। যতক্ষণ আমরা নিরাপদ বোধ না করবো ততক্ষণ পর্যন্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে।
জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) আবির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মূলত ভুক্তভোগীদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই। তাদের সঙ্গে কথা বলে মামলা নেওয়ার চেষ্টা করছি। তাদের পক্ষ থেকে মামলা না করা হলে, পুলিশ করবে। মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছুদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কাজ চলছিল।