প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কোনও প্রার্থীর দেওয়া খাবার নিতে মানা

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আছে যে তারা কী করতে পারবেন এবং পারবেন না। তাদেরকে নির্বাচন কমিশন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত কার্ড দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র সেসব সাংবাদিকেরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন এবং তারাই সেখানে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। গাজীপুরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা খোয়াল রাখবেন। বাংলাদেশের সব মানুষ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা তাকিয়ে আছে এ নির্বাচনের দিকে। নির্বাচনটি অত্যন্ত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। ওই নির্বাচনের যত প্রশংসা সব অগ্রিম হিসেবে আমি আপনাদেরকে দিয়ে গেলাম। কোনও প্রার্থীর দেওয়া খাবার গ্রহণ করবেন না।’

রবিবার (২১ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে ওই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  

ইসি আলমগীর বলেন, ‘মনে রাখবেন আপনার নিরপেক্ষতা, দক্ষতা কেন্দ্রের সমস্যা ৯০ ভাগ সমাধান করে দেবে। আপনি যদি নিরপেক্ষ আচরণ করেন এবং কাজে আপনার দক্ষতা প্রমাণ পায় তাহলে কেউ আপনাকে ঘাঁটাবে না। ভোট কেন্দ্রে কারা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত সেটা আপনারা জানেন। প্রশিক্ষণে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে। তারা ছাড়া অন্য লোক প্রবেশ করতে পারবেন না, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র‍্যাবও না। শুধুমাত্র ভোটার এবং ভোটের দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা শুধু প্রবেশ করবেন। আপনি যদি আহ্বান করেন বিশেষ পরিস্থিতিতে তখন তারা প্রবেশ করবেন, তার আগে নয়।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন দেখতে দেখতে আপনার (প্রিসাইডিং অফিসার) দক্ষ হয়ে গেছেন। যদি কোনও কারণে দেখেন, ভেতরের ডিসিপ্লিন আপনার পক্ষে না, যতগুলো ক্ষমতা দেওয়া আছে বিধিতে সেটা প্রয়োগ করেও আপনি পারছেন না শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, সে ক্ষেত্রে সেখানে পুলিশের যে কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন তাকে আপনি নির্দেশ দেবেন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য। আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘গাজীপুর সিটিতে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৭ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৯ ও ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি। মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৩। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে ৪৮০, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৩৪৯৭, পোলিং কর্মকর্তা ৬৯৯৪ ও মোট ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা রয়েছেন ১১ হাজার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইভিএমসহ নির্বাচনের মালামাল বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এসব মালামাল বিতরণ এবং গ্রহণ করার জন্য আমরা পাঁচটি সেন্টার নির্ধারণ করেছি। চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, দারুস সালাম গোরস্থান ও ফাজিল মাদ্রাসা, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, ধীরাশ্রম গির্জা কিশোর (জিকে) আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ ও বিতরণ করা হবে।’