গাজীপুরে সেলুন থেকে ধরে নিয়ে পুলিশের সোর্স ফাহরিয়ার আহমেদ ফারুককে (৩৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১ জুলাই) ভোরে প্রধান বাদল হোসেনকে (৪০) ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতে পাঠালে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, আসামি পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় (২৮ জুন) গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন দেশিপাড়া এলাকায় এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত ফারুক গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার দেশিপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম সিকদারের ছেলে। আসামি বাদল একই এলাকার মনসুর আলীর ছেলে।
নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ঈদের আগেরদিন বুধবার সন্ধ্যায় ফারুক তার ছোট ছেলে আয়ানকে (২) চুল কাটাতে বাড়ির পাশে হারেজ মার্কেটের একটি সেলুনে নিয়ে যায়। এ সময় প্রধান আসামি স্থানীয় বাদল ও আলতাফসহ কয়েক যুবক তাকে টেনে-হিঁচড়ে ওই সেলুন থেকে বের করে একটি কাঠ বাগানে নিয়ে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার লাশ একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের মা রোকেয়া বেগম জানান, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছিল। এ কারণে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জেরে ঈদের আগের রাতে তাকে কুপিয়ে খুন করে আসামিরা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) আবু তোরাব শামসুর রহমান জানান, ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। শনিবার ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সে মাদক ব্যবসায়ী ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সদর থানায় চারটি মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাদল পুলিশকে জানিয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তারা পরিকল্পিতভাবে ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।