‘পাপিয়া কাণ্ডের’ পর কাশিমপুর মহিলা কারাগারের দায়িত্বশীলদের বদলি

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘পাপিয়া-কাণ্ডের’ পর নানা আলোচনা-সমালোচনার জেরে জেলার, জেল সুপার, মেট্রন ও কারারক্ষীদের বদলি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (১৭ আগস্ট) ওই কারাগারের জেলার ফারহানা আক্তার ও মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে বদলির মাধ্যমে পুরো জনবল কাঠামো পরিবর্তন করা হলো। কারগারে বন্দি নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বদলি করা হয়েছে বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। 

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে বদলি করে তার স্থলে লুৎফুন্নেছাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই দিনে জেলার ফারহানা আক্তারকে বদলি করা হয়। ওই চিঠিতে সুষ্ঠু প্রশাসন পরিচালনার স্বার্থে মেট্রনদের পরিবর্তনের আদেশ এবং জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কাযকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে গাজীপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের নতুন জেলার রিজিয়া বেগম। নতুন মেট্রন লুৎফুন্নেছা এবং অতিরিক্ত জেল সুপার হিসেবে মো. শাহজাহান আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এর জেল সুপার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত জেল সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে কারা কর্তৃপক্ষ কারারক্ষী, জেলার, জেল সুপার ও সর্বশেষ মেট্রনকে বদলি করেছেন। বর্তমানে আমি অতিরিক্ত জেল সুপার ও রিজিয়া বেগম জেল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন মেট্রন হিসেবে লুৎফুন্নেছাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

কারাগার সূত্রে জনা যায়, জেলার ফারহানা আক্তার ও মেট্রন ফাতেমা আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় বন্দি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় পাপিয়া-কাণ্ডের পরই জানাজানি হয়। ফারহানা আক্তার দায়িত্ব পালনকালে পাপিয়াকে নানাভাবে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বন্দি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে ফাতেমা আক্তারকে রাখা হয়েছিল রিজার্ভে। বুধবার বিকালে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রেফতারের পর কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রাখা হয়। তিনি অপরাধ কার্যক্রম শুরু করেন কারাগারের ভেতরেও, গড়ে তোলেন অনুগত বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে বন্দি ও অন্য নারীদের কাছ থেকে তিনি টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতেন। এ ছাড়া তাদের ওপর চালাতেন নির্যাতন। কয়েক কারারক্ষী ও নারী বন্দি তার এসব কাজে সহযোগিতা করতেন।

এসব অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৩০ জুলাই কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ছয় কারারক্ষীকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বদলি করা হয়। পরে গত ৩ আগস্ট কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমানকে রাজশাহী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বন্দি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকায় মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে রিজার্ভে রাখা হয়েছিল। ১৬ আগস্ট বিকালে তাকেও বদলি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় আদালতে নথি চুরির অভিযোগে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে নির্যাতন করা হয়। গত ২৫ জুন ওই নারী আইনজীবীর ভাই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করে তার বোনকে নির্যাতনের ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ অভিযোগের মাধ্যমে শামীমা নূরের নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনার পর পাপিয়াকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মহিলা কারাগারের মেট্রন ফাতেমাকে প্রত্যাহার করা হয়।