পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ চালুর ১৫ মাসের ব্যবধানে চালু হলো ট্রেন সার্ভিস। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এই রেলসংযোগ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে দেশের মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের মানুষ প্রথমবারের মতো রেল যোগাযোগের আওতায় আসছেন। এতে পদ্মা নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেশ উচ্ছ্বাসিত।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে পদ্মা সেতুতে সড়ক যোগাযোগ, রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের ধারাবাহিকতায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধন করা হলো। ঢাকা-যশোর ১৭২ কিলোমিটার রেলসংযোগ প্রকল্পের মধ্যে প্রথম দফায় এই রেলপথ উদ্বোধন করা হয়।
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রেল যোগাযোগ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীসহ দুই পাড়ের বাসিন্দারা দলে দলে উদ্বোধন স্থলে জমায়েত হন। এ সময় হাজার হাজার জনতার ঢল নামে। এ কারণে সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত। পুরো এলাকাজুড়ে নেওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি।
তবে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাহিরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে অবস্থান নেয় দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকে। সেই সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সাধারণ জনগণ।
রেল সার্ভিস উদ্বোধন উপলক্ষে স্বস্তি প্রকাশ করে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজ আমাদের মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য ঈদের দিন। আজকের এই দিনটা আমাদের জন্য নতুন করে ঈদের আনন্দ নিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনা রেল উদ্বোধন করে বাঙালির জন্য নতুন একটি দুয়ার উন্মোচন করলেন। দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা আরও বেশি শক্তিশালী হলো।’
আওয়ামী লীগকর্মী জয়দেব বর্মন প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই হলো আমাদের নেত্রী। উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জনগণের শান্তি ও স্বস্তির কথা সারাক্ষণ চিন্তা করে থাকেন। ১৯৭৫ সালে তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পুরো পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে ঘাতকরা। তবুও তিনি বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের কল্যাণে একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর অবদান ও প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না।’
মাদারিপুরের শ্রীনগরের বাসিন্দা কুলসুম বেগম প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য সড়কের পাশে অধীর আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘রেল উদ্বোধনের মাধ্যমে যে উন্নয়ন হয়েছে তার জন্য শ্রীনগরবাসীর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। কেননা রেল উদ্বোধনের জন্য আমরা শ্রীনগরবাসীরা বেশি উপকৃত হচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে পদ্মা সেতু ও সুন্দর রাস্তা করে দিয়েছে তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
মাওয়া এলাকার চাকরিজীবী আফজাল হোসেন বলেন, ‘স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য এই সেবাটি বেশ উপকারে আসবে। অল্প ভাড়ায় যাতায়াত করা যাবে। এতে করে আরও একধাপ এগিয়ে যবে যোগাযোগব্যবস্থা। তাছাড়া সামান্য বেতনে চাকরি করে মাসে হাজার হাজার টাকা ভাড়ার পেছনে খরচ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেখানে ট্রেন ব্যবস্থা আমাদের জন্য খরচ কমিয়ে আনবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এই রেল সেবা পেয়ে আমরা খুশি।’