বেতন বাড়ানোর দাবি গাজীপুরে লাঠি হাতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা পঞ্চম দিনের মতো শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় সকাল ১০টা থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতো তাদের হাতেও লাঠি দেখা গেছে।

মূল বেতন ন্যূনতম ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা জানান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এক পাশে অবস্থান নিলে অপর পাশ দিয়ে যানবাহন থেমে থেমে চলতে থাকে।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা দেখা গেছে, চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে কোনাবাড়ী ও চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় সব কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুপুরের দিকে কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সমাবেশ করছিলেন। চন্দ্রা এলাকায় পুলিশের জল কামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে তুষকা পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কোনাবাড়ী উড়াল সেতুর নিচে সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেন। পরে ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিলে তারা পাশের ইউকি রেস্টুরেন্টের সামনে সড়কে লাঠি নিয়ে অবস্থান নেন। 

ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, বর্তমানে একজন সহকারীর (হেলপার) বেতন আট হাজার টাকা। এই বেতনে স্বামী-স্ত্রী দুজনের সংসারই চলে না। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও বাজার করা খুব কষ্ট হয়ে পড়েছে। বেতন ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে বর্তমান সময়ে কোনোমতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হবে।

আন্দোলনকারী শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান সময়ে বাজারে সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বগতি। এ বেতনে পরিবার নিয়ে আমাদের চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাড়িতে বাবা-মায়ের জন্য টাকা পাঠাতে পারছি না। প্রায়ই ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বেতন বাড়ানোর দাবিতে সড়কে নামতে হচ্ছে আমাদের।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী জোনের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, মহাসড়কে যানবাহন কম থাকলেও আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থানের কারণে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, তেলিচালা এলাকায় শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় তাদের কর্মসূচি বন্ধ ছিল। কয়েকদিনে এসব এলাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি চলাকালে কারখানায় ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।