সরকারি গেজেট অনুযায়ী পদের সঙ্গে সমন্বয় করে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে উৎপাদনকাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করেছেন গাজীপুরের একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশের একাধিক কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। পাশাপাশি বাসন থানা এলাকার টার্গেট ডেনিম ওয়্যার কারখানার কয়েকশ শ্রমিক গাজীপুর-টাঙ্গাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন।
একাধিক কারখানার শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগরীর নাওজোর এলাকার জে কে স্পিনিং মিলস লিমিটেড, বাসন এলাকার স্টিচ মেইড লিমিটেড, ইসলামপুর এলাকার টার্গেট ডেনিম অ্যান্ড ক্যাজুয়াল ওয়্যার লিমিটেড ও আইসিসি কম্পোজিট লিমিটেড কারাখানার শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করেছেন। ন্যূনতম মজুরি নিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের বেতন সমন্বয় না করায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জে কে স্পিনিং মিলস ও স্টিচ মেইড একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা কারখানার ভেতরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেছেন। গেজেট অনুযায়ী পুরোনো শ্রমিকদের বেতন ধরেনি কারাখানা কর্তৃপক্ষ। আগের গ্রেডে বেতন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
টার্গেট ডেনিম অ্যান্ড ক্যাজুয়াল ওয়্যার লিমিটেডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ডেনিম সেকশনের শ্রমিকদের বেতন নতুন গ্রেডে পরিশোধ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিকরা সন্তুষ্ট নন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে কর্মবিরতি পালন করেছেন। দুপুর পর্যন্ত কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করেছেন। এর মধ্যে জে কে স্পিনিং মিলস লিমিটেড কারখানা ছুটি দেওয়ায় শ্রমিকরা নিজ নিজ বাসায় চলে গেছেন। কারখানার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’
গত ৭ নভেম্বর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়। ওই দিন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানিয়েছিলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের ৬ষ্ঠ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।