গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজের এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ভাই ও দুই ভাতিজার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ভাই-ভাতিজারা পলাতক রয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সাজনধারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজা সাঈদ আল মামুন (৫৫) উপজেলার সাজনধারা গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
সাঈদ আল মামুনের মেয়ে সুমাইয়া শাহরিন বলেন, ‘বাবা সকালে কলেজে গিয়েছিলেন। দুপুরের পর বাড়ি ফিরে খাবার খেয়ে বাড়ির পাশে একটি জমিতে জমে থাকা আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে হঠাৎ বাবাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে বাবার ছোট ভাই মজিবুর এবং তার দুই ছেলে সুমন ও সেজান। পরে বাড়ির ও আশপাশের লোকজন অচেতন অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমার বাবাকে হত্যা করেছে।’
নিহত শিক্ষকের শ্যালক আল মামুন জানান, তার বোন জামাই ভাইদের নির্যাতনের কারণে দীর্ঘদিন কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত দুই বছর আগে তিনি আবার গ্রামের বাড়ি ফিরে আসেন। সেখানে যাওয়ার পর ভাইদের সঙ্গে জমিজমা দিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আবুল ফজল মো. নাসিম বলেন, ‘জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই কলেজশিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাত ৮টার দিকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের ভাই-ভাতিজারা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’