এদিকে, ফাতেমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন ফাতেমার বাবা আব্দুর রহমান। তবে ফাতেমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন ফাতেমা। সেই প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেওয়ায় নিজেই শরীরে আগুন দেন তিনি।
শারীরিক প্রতিবন্ধী মনির হোসেন জানান, ১০ বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার মিটালু গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দুটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার শ্রীপুরের সাটিয়াবাড়ী এলাকার ডার্ড কম্পোজিট মিলস লিমিটেডে সুইং অপারেটর পদে তিন বছর ধরে চাকরি করছেন। কর্মস্থলে আয়রনম্যান শরীফ মিয়ার সঙ্গে ফাতেমার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার সামনেই প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বাধা দেন। এতে অভিমান করে গায়ে কেরাসিন ঢেলে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেন। এসময় তিনি ওয়াটার পাম্প থেকে পানি আনতে গেলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে নিজের গায়ে নিজেই অগ্নিসংযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সে ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি।
আহত ফাতেমা আক্তারের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, মেয়ের সুখের কথা ভেবে কয়েকবার তার স্বামীকে যৌতুক দিয়েছি। কেন আমার মেয়ে নিজের গায়ে আগুন দিলো এটি আপনারাই খুঁজে দেখুন। আমার সন্দেহ তার স্বামীর ও বাড়ির লোকজন ফাতেমার গায়ে আগুন দিয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, অগ্নিদগ্ধ ফাতেমা আক্তারের বাবা আব্দুর রহমান প্রতিবন্ধী মনির হোসেন, তার বাবা আব্দুর রউফ, মা মাফিয়া আক্তার, চাচাতো ভাই ইব্রাহিম মোড়ল ও কাজল মোড়লসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে আটক করা হয়েছে। আগুনে গৃহবধূর শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে।
/জেবি/টিএন/আপ/এআর/