হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন, বাকিরা খালাস

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় হত্যা মামলায় দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে রায় ঘোষণার সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না দণ্ডপ্রাপ্তরা। রায়ে অন্য ৭ আসামিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর ১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন উর্মি এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাছান ছারওয়াদী।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মান্নান চোকদারের ছেলে নুর হোসেন চোকদার (৪৮) ও আনোয়ার হোসেন (৩৮)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রতনপুর গ্রামের ছাদেকুল ইসলাম ও তার ভাতিজা শাকিল বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের রাস্তায় আসলে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিসহ আরও ৭ জন মিলে ছাদেকুলকে পূর্বশত্রুতার জেরে মারধর করেন। এ সময় আসামি নুর হোসেনের হুকুমে আনোয়ার হোসেন ছাদেকুলকে গুলি করেন। এ ছাড়া আসামি নুর হোসেন রামদা দিয়ে ছাদেকুলকে কুপিয়ে জখম করেন। অন্যান্য আসামিরা ছাদেকুলকে পিটিয়ে পুরো শরীরে জখম করেন।

গুলির শব্দ পেয়ে ছাদেকুলের মেয়ে শারমিন ও তার চাচি হালিমা বেগম লোকজনের সহায়তায় ছাদেকুলকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতৃর্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ছাদেকুলের স্ত্রী আসমা বেগম বাদী হয়ে ওই দিন সদর থানায় ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার ১৩ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।

রায়ের ব্যাপারে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পল্টু জানান, সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের ছাদেকুল হত্যা মামলায় আসামি নুর হোসেন চোকদার ও আনোয়ার হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অপর ৭ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আদেশের সময় রায়ে খালাসপ্রাপ্ত ৭ আসামি আদালতে হাজির থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন ছিলেন অনুপস্থিত। বিচারকের রায় আমরা মেনে নিয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত ৭ আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে বাদী তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে।’