পুলিশ গিয়ে খুঁজে পায়নি, কুপিয়ে হত্যা করলো কিশোর গ্যাং

নরসিংদীর শিবপুরে প্রকাশ্যে মারুফ মিয়া নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। রবিবার (৭ জুলাই) দুপুরে শিবপুর উপজেলার সদর রোডে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। 

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাত ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন।

মারুফ মিয়া (২৭) উপজেলার সৈয়দনগর গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি সবজি বিক্রেতা। গত এপ্রিল মাসে শওকত নামের একজনকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় করা মামলার ২ নম্বর আসামি ছিলেন। এতদিন তাকে খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর পৌর শহরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয়। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন মারুফ এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন সৈকত। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সৈকত গ্রুপের প্রধান সৈকত আহত হন। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় মারুফ মিয়া ছিলেন ২ নম্বর আসামি। ৩ মাস পালিয়ে থাকার পর রবিবার সকালে মারুফ সদর রোড এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সংবাদে সৈকত গ্রুপের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে মারুফকে না পেয়ে ফিরে আসে। পরে সৈকত গ্রুপের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেই বাড়িতে হানা দিয়ে মারুফের ওপর হামলা চালান।

নিহতের ছোট ভাই মাহফুজ ও বোন বৃষ্টি আক্তার জানান, বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর মারুফকে শিবপুর সদর রোডের একটি বাড়িতে আটকে রাখে সৈকতের লোকজন। খবর পেয়ে তাকে বাঁচাতে ছুটে যান বৃষ্টি। এ সময় বৃষ্টির কাছ থেকে তার বাবার পেনশনের তোলা চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তার সামনেই ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। পরে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, ওই যুবককে পুলিশ খুঁজে না পেয়ে ফিরে এলেও কেন সেই বাড়িতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি; বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চলছে সমালোচনা। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি জানতে চাইলে শিবপুর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশ খুঁজে না পেয়ে ফিরে এসেছিল। সেখানে কাউকে না পাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। মারুফ দুই মাস আগে একজনকে কুপিয়েছে। বয়স বেশি হলেও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। সোমবার সকালে লাশের ময়নাতদন্ত হবে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷