গাজীপুরের শ্রীপুরে আঞ্চলিক সড়কে গাছ ফেলে মাইক্রোবাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা চালক নুরুজ্জামানকে মারপিট করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সাতখামাইর চেরাগআলী মাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির শিকার মাইক্রোবাসচালক নুরুজ্জামান ডাকাতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নুরুজ্জামান কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের আব্দুস সাহিদের ছেলে। তার মাইক্রোবাস কাওরাইদ ও বরমী স্ট্যান্ডের তালিকাভুক্ত। তিনি নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী (টানপাড়া) গ্রামের বিদেশগামী যাত্রী ফাহিমসহ তার ৮-১০ স্বজনকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরছিলেন।
মাইক্রোবাসচালক নুরুজ্জামান জানান, ফাহিম মীরসহ (২৩) তার ৮-১০ স্বজনদের নিয়ে মাইক্রোবাসে বিমানবন্দর যান। তিনি গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী (টানপাড়া) গ্রামের জয়নাল মীরের ছেলে। ফাহিমের গতকাল রাতের ফ্লাইটে সৌদি যাওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে ১২টায় মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়কের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর চেরাগআলী মাজারসংলগ্ন এলাকায় তিনি ডাকাতের কবলে পড়েন। চেরাগআলী মাজারসংলগ্ন মোড় পার হতেই সড়কে তিনি ২টি গাছ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ডাকাতি হবে ভেবে চালক মাইক্রোবাস ঘুরিয়ে পেছনে আসতে চাইলে গজারি বনের ভেতর লুকিয়ে থাকা মুখোশ বাঁধা ১০-১২ জন ডাকাত তার গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে।
এ সময় এক ডাকাত চালক নুরুজ্জামানকে কেন মাইক্রোবাস ঘুরিয়ে পেছনে নিতে চাইলো বলে হাতে থাকা দা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ডান হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে রক্তাক্ত জখম হন নুরুজ্জামান। পরে মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীরা ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যায়। এ সময় ডাকাতরা তাদের হাতে থাকা দা, চায়নিজ কুড়াল এবং করাতের ভয় দেখিয়ে নারী ও পুরুষ যাত্রীদের কাছ থকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। এ সময় বরমী থেকে একটি কাভার্ডভ্যান মাওনার দিকে আসার পথে সড়কের ওই স্থানে লোকজন দেখে আবার গাড়ি ঘুরিয়ে বরমীর দিকে চলে যায়। সড়কে ডাকাতির খবর পেয়ে পাশের গুচ্ছগ্রাম থেকে লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে আসার খবরে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানার ওসি (অপারেশন) নয়ন কর বলেন, ‘সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির কোনও ঘটনা আমরা শুনিনি এবং কেউ থানায় অবগত করেনি।’