বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন গাজীপুরের টঙ্গীর দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার সকাল থেকে নিজ নিজ কারখানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
কারখানাগুলো হলো- মেঘনা সড়ক এলাকার এমট্রানেট গ্রুপের গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ও ব্রাভো অ্যাপারেল লিমিটেড কারখানা।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কর্মকর্তার পদত্যাগ, ঈদ বোনাস, পর্যাপ্ত ছুটিসহ মোট ১৩ দফা দাবিতে মঙ্গলবার কারখানার ভেতর দিনভর কর্মবিরতি পালন করেন গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ ও ব্রাভো অ্যাপারেল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে আবার কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে কারখানার সামনে বিক্ষোভে নামেন কিছু শ্রমিক।
শ্রমিকরা জানান, শ্রমিক এবং স্টাফ প্রতিনিধিদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। দাবি মেনে নিয়ে নোটিশ জারি করতে হবে। আমাদের দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগদান করবে না। একই মালিকানাধীন ওই দুটি কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের সহাকারী পুলিশ সুপার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই কারখানাগুলোর শ্রমিকদের নানাভাবে বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে শান্তপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছিলেন। দুপুরের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে নিলে বিকাল ৩টার দিকে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন। বৃহস্পতিবার থেকে সব শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন।’
এসব বিষয়ে এমট্রানেট গ্রুপের গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ও ব্রাভো অ্যাপারেল লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২১ আগস্ট ছয় দফা দাবিতে গাজীপুরে প্রথমবার আন্দোলন শুরু করেন টঙ্গীর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। এরপর ধীরে ধীরে অন্য কারখানাতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও শুরু হয় শ্রমিক আন্দোলন। এরপর প্রতিদিনই বিক্ষোভ লেগে ছিল। দাবি আদায়ে কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। সহিংসতা ও ক্ষতি এড়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনেক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত দুই দিন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হয়েছে।