কিশোরগঞ্জে হামলার শিকার হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী কাউসার আলম আরমান। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।
আরমানের বড় বোন শাহানাজ পারভীনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (১৬ অক্টোবর) আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে আরমান বাড়ির সামনে দাঁড়ানো ছিলেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে তিনি ও তার বাবা রাস্তায় আসেন। তখন দেখতে পান, আট থেকে ১০ জন তাকে মারধর করছে। এ সময় একজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টায় মহুয়া মঞ্চের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। পরে তা শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রদক্ষিণ করে বটতলায় এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম ইমনের সঞ্চালনায় বক্তারা হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধের দাবি জানান।
সমাবেশে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল হাই স্বপন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই মাস পেরিয়ে গেছে, এরপরেও আওয়ামী-ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে আজ আমাদের একজন সহযোদ্ধার অপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার না করা হয়, তাহলে আমরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করবো।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনও দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টগুলোতে জুলাই বিপ্লবে হামলার নির্দেশদাতারা লুকিয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলাকারীরা পুনর্বাসিত হচ্ছে। অথচ আমার ভাইয়েরা মার খাচ্ছে। যে ৯ দফার ওপর ভিত্তি করে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার অন্যতম দাবি ছিল হামলাকারীদের বিচার করা। তা যদি করা না হয় তাহলে ছাত্র জনতার সঙ্গে বেইমানি করা হবে। অবিলম্বে জুলাই বিপ্লবের খুনি ও খুনের নির্দেশদাতাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় যেভাবে আমরা হাসিনা হটিয়েছি, সেভাবে আপনাদের হটাতে দুইবার ভাববো না।
বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী আবদুর রশিদ জিতু বলেন, ছাত্রজনতার রক্তের ওপর দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। আপনাদের উচিত ছিল, গণঅভ্যুত্থানে যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের সবার আগে বিচার করা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা দেশের সব জায়গায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে আমরা এখন আমাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত। অবিলম্বে এই অভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা হবে।
এদিকে, আরমানের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার রাজিব (৩০) আরমানের প্রতিবেশী। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হামলাকারীরা ছাত্রলীগকর্মী কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, এটা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা তদন্ত করছি।