বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘জাতিসংঘের যে আঞ্চলিক মানবাধিকার অফিস বাংলাদেশে করবার পাঁয়তারা করছেন, আর এ জন্য যে বয়ান তৈরি করছেন- দেশের মুসলমান আর এ দেশের আলেম সমাজকে যদি এত বোকা ভাবেন, তাহলে আমি মনে করি, আপনারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। এই মানবাধিকারের নামে তাদের সারা বিশ্বজুড়ে অপকর্মের ফিরিস্তি আমাদের কাছে আছে।’
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কাজ দেশের আভ্যন্তরীণ সংস্কার করা। সংস্কার করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা বাংলাদেশের জনগণের কাছে হস্তান্তর করুন। আপনারা ক্ষমতায় বেশি দিন থাকতে চাইলে থাকুন, তবে আকাম করবেন না। মানবাধিকারের নামে পশ্চিমা বিশ্বকে এখানে ডেকে এনে যদি মুসলমানদের ঘরে ঘরে আগুন জ্বালান, তাহলে সে আগুনে সর্বপ্রথম আপনারাই জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে হবে। কাদিয়ানী ও তাদের অনুসারীদের অমুসলিম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তারপর ড. ইউনূসকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’
রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের ‘অমুসলিম ঘোষণার’ দাবিতে বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের মহাসম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জেলার সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে ওই সম্মেলন শুরু হয়।
মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে না। এমন পশ্চিমা বিজাতীয় বিধ্বংসী সংস্কৃতি এ দেশে এলে বুক টান করে আবু সাঈদের মতো আমাদের দাঁড়িয়ে পড়তে হবে। রক্ত লাগলে সাগর পরিমাণ রক্ত দিয়ে রুখে দাঁড়াবো।’
এতে সভাপতিত্ব করছেন- খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির আব্দুল হামিদ। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী।
সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার-হাজার মানুষ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে শুরু করেন।