ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাজেরা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতালের নার্স ও স্টাফদের মারধর করেছেন মৃতের স্বজনরা। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ।
রবিবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ডেঙ্গু ব্লকের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। তিনি মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার পশ্চিমপাড়া এলাকার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার বিকালে হাজেরা বেগমকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে ডেঙ্গু ব্লকের ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাখলেও ঠিকমতো চিকিৎসা দেননি চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাজেরা বেগমের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রবিবার সকাল থেকে মায়ের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। নার্সদের অক্সিজেন দিতে অনুরোধ করলেও ব্যবস্থা নেননি। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে চিকিৎসা দিতে অবহেলা করেছে কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক ও নার্সরা ঠিকমতো সেবা না দেওয়ার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের কয়েকজন স্বজন প্রতিবাদ করেছেন। এ নিয়ে নার্স ও স্টাফদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি।’
তবে হাসপাতালের নার্স তাসলিমা আক্তার দাবি করেছেন, স্বজনদের হামলায় কয়েকজন নার্স ও স্টাফ আহত হয়েছেন। রোগীর স্বজনরা আমাদের মারধর করেছেন।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সাইদুর রহমান হিমেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় হাজেরা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। জটিলতার কারণে তাকে ঢাকায় নেওয়ার কথা বললেও নেননি স্বজনরা। রবিবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে রোগীর মৃত্যু হয়।’
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল বলেন, ‘হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর চাপ অনেক বেশি। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপরও যেহেতু স্বজনরা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন, সেহেতু হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দুই কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদ জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নার্স ও স্টাফদের মারধরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবো আমরা।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ৩৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন।