সন্তানদের মারধর সহ্য করতে না পেরে প্রাণ দিলেন বাবা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সন্তানদের মারধর সহ্য না করতে পেরে বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। পরে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ৮০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের নাম সুরেন গাইন।

শুক্রবার ভোরে কোটালীপাড়া উপজেলার বাগান উত্তরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তারর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিহত ব্যক্তি বাগান উত্তরপাড়া গ্রামের মতিলাল গাইনের ছেলে ও দুই পুত্র সন্তানের ছেলে।

জানা গেছে, গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) পারিবারিক বিষয় নিয়ে সুরেন গাইনের সঙ্গে তার দুই ছেলে খোকন গাইন (৪৫) ও প্রদীপ গাইনের (৪০) বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে বাবার গায়ে হাত তোলেন। এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ওই দিন দিবাগত রাতে সুরেন গাইন ঘরে থাকা কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে পরিবারের লোকজন কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এসে ভর্তি করেন। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ছয় দিন চিকিৎসা শেষে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে সুরেন গাইন মারা যায়।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক প্রতিবেশী বলেন, বৃদ্ধ সুরেন গাইন ও তার স্ত্রী আলাদাভাবে দুই ছেলের কাছে থাকতো। এ নিয়ে প্রায়ই দুই সন্তানের সঙ্গে থাকা-খাওয়া নিয়ে মা-বাবার ঝগড়া হতো। যার কারণে মাঝে মাঝে দুই ছেলে তাদের মা-বাবাকে মারধর করতো। এই মারধর সহ্য করতে না পেরে সুরেন গাইন বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে দুই ছেলে খোকন গাইন ও প্রদীপ গাইনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে খোকন গাইনের স্ত্রী সুচিত্রা গাইন দাবি করেন, আমার শ্বশুর কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি কী কারণে কীটনাশক পান করেছেন তা আমাদের জানা নেই।

কোটালীপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।