গাজীপুর মহানগরীর তারগাছ এলাকায় ঢাকাগামী আজমেরী পরিবহনের বাসচাপায় পোশাক কারখানার নিরাপত্তাপ্রহরী মোন্নাফ আলী (৫০) নিহত হন। এ ঘটনায় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ৪টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনার পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যানাবহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাত ৮টায় তারগাছ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোন্নাফ আলী ঝিনাইদহ সদর এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় অনন্ত পোশাক কারখানার নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে চাকরি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল ও স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তাপ্রহরী মোন্নাফ আলী ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় আজমেরী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা বাসটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা উত্তেজিত জনতার সঙ্গে তালমিলিয়ে আজমেরী পরিবহনের আরও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বাসে আগুনের খবর পেয়ে গাজীপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে উত্তেজিত জনতা তাদের বাধা দেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (ট্রাফিক) ইব্রাহিম খান বলেন, ‘তারগাছ এলাকায় স্থানীয় অনন্ত ক্যাজ্যুয়াল পোশাক কারখানার নিরাপত্তাপ্রহরীকে যাত্রীবাহী বাসচাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা ওই বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করলে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।’
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘বাসে আগুন দেওয়ার খবরে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি ছিটাতে চাইলে উত্তেজিত জনতা হামলা চালায়। তাই ফায়ার সার্ভিস কাজ করতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।’