মুন্সীগঞ্জ সংলগ্ন চাঁদপুরের মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ও মোহনপুর সীমানাধীন চর আব্দুল্লাহপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- চাঁদপুর মতলব থানার দশানি গ্রামের রিফাত (২৯) ও মতলব ভাষানচর গ্রামের রাসেল (৩০)। গুলিবিদ্ধ আইয়ুব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হয়েছেন মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা আইয়ুব আলী (৩৫)।
স্থানীয়রা জানায়, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ সদরের কালীরচর গ্রামে কানা জহির ও কিবরিয়া মিজি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সদরের কালিরচর এলাকার কিবরিয়া মিজি ও তার লোকজন মুন্সীগঞ্জ-মোহনপুর সীমানাধীন চর বাংলাবাজার এলাকায় চাঁদপুর নৌ পুলিশের সহযোগিতায় ২৫ থেকে ২৬টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। অপরদিকে কালিরচর গ্রামের বাসিন্দা কানা জহির গ্রুপও একইভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে বিরোধ দেখা দেয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার কানা জহির ও তার লোকজন প্রতিপক্ষ কিবরিয়া মিজির অবৈধ বালু মহালের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলতে গেলে কিবরিয়া মিজির বালু সিন্ডিকেটের সশস্ত্র সদস্য জনি, জসিম দেওয়ান মিছির বেপারী ও মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয় এবং গুলিবর্ষণ করে। এতে ট্রলার ও স্পিডবোটে থাকা রিফাত, রাসেল ও স্পিডবোট চালক আইয়ুব আলী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিফাত ও রাসেলের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আইয়ুব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুই জন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। আরেকজন গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত আইয়ুব আলী বলেন, একটি বাল্কহেড নিয়ে আমরা ছয় জন মেঘনায় বালু উত্তোলন করতে যাই। সেখানে ১৫-১৬ জন হঠাৎ কয়েকটি স্পিডবোটে করে এসে আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে দুই জন নিহত হন ও আমার পায়ে গুলি লাগে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, রিফাত এবং রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটি চাঁদপুরের মোহনপুর এলাকার মেঘনা নদীতে। তাই আমরা বেশি কিছু বলতে পারবো না। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ঘটনাটি নদীতে ঘটেছে। এ ব্যাপারে নৌ পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে।
নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি চাঁদপুর-মুন্সীগঞ্জ সীমানায় ঘটেছে। কানা জহির ও কিবরিয়া গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। তারা ডাকাতি ও বালু মহলের দখলের সঙ্গে জড়িত।