নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরি করতে বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে এলাকাবাসীর হাতে আটক চোর উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আমেনা বেগম। তিনি কেরাবো এলাকার দেওয়ান কামরুজ্জামান বাবুলের স্ত্রী। অপরদিকে গণধোলাইয়ে নিহত ব্যক্তির নাম মেহেদী। তিনি কাঞ্চন পৌরসভার মস্তাপুর এলাকার রেজাউলের ছেলে। পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার দিন আগে কামরুজ্জামান বাবুলের বাড়িতে মেহেদীসহ কয়েকজন মিলে টাইলস বসানোর কাজ করেন। কাজ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে বাড়িটি ফাঁকা আছে ভেবে চুরির উদ্দেশে মেহেদী ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা গৃহবধূ আমেনা বেগম তাকে বাধা দেন।
বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদী তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আমেনা বেগমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমেনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন মেহেদীকে আটক করে। কিছুক্ষণ পর আমেনা বেগমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা আটক মেহেদীকে গণধোলাই দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিহত দুই জনের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিহত দুই জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।