রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আহনাফ রাইয়ান এবং তার ভাগ্নি। এ দুর্ঘটনায় তার মা রেহেনা আক্তার (৫৯) নিহত হয়েছেন। তবে বড় বোন ডা. নুসরাত জাহান খান সাবা জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে মা, বড় বোন ও ভাগ্নিকে নিয়ে রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন রাইয়ান। পথে দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নিখোঁজ আহনাফ রাইয়ান রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাবি ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। স্কুলজীবন থেকেই বিতর্ক চর্চায় সক্রিয় ছিলেন তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভিন্ন বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, দুর্ঘটনার সময় তার ভাগ্নি (রাইয়ানের বোন) বাস থেকে বের হতে পারলেও অন্যরা বের হতে পারেননি। পরে রেহেনা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন রাইয়ান ও তার ভাগ্নি।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাইয়ানের মাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তার বোনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও রাইয়ান ও তার ভাগ্নের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি এ ঘটনায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকজনকে জীবিত করা হলেও এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।