দৌলতদিয়ায় ফেরির অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, জনমনে ক্ষোভ-আতঙ্ক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ও ঘাটের স্বল্পতায় কয়েকশ যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটারে ছড়িয়ে আছে। পাশাপাশি দুদিন আগে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে বহু প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পরিবহন চালক, যাত্রী ও ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব ধরনের ছুটি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব অফিস খোলা থাকবে। যে কারণে শুক্রবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলগামী বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও যানবাহন নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে থাকেন। এতে সকাল ৮টা থেকে ঘাট এলাকায় মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সারা দিন একই অবস্থা ছিল। যানবাহনগুলোকে ফেরির নাগাল পেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত মহাসড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় শতাধিক যানবাহন আটকে আছে। 
 
সরেজমিন বিকাল ৫টার দিকে দেখা গেছে, চালু থাকা দৌলতদিয়ার দুটি ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। লঞ্চগুলোতে গাদাগাদি করে উঠছেন যাত্রীরা। ফেরিগুলোতে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়াও বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ও সাধারণ যাত্রী পার হচ্ছেন।

যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী বাসের যাত্রী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বাসে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে সিরিয়ালে আটকে আছি। এখন ফেরিঘাটে যেতে ভয় হচ্ছে। দুই দিন আগে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে, তা মনে পড়লেই গাঁ শিউরে ওঠে। আমরা আতঙ্কে যাতায়াত করছি। না গিয়েও কোনও উপায় নেই। বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে।’

আরেক যাত্রী বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যাচ্ছি। ঘাটে এসে ফেরির জন্য বসে আছি। ঘাটে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটা সম্পন্ন ফেরি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে ঘটেছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’

যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে

সিরিয়ালে আটকে থাকা জামান পরিবহন বাসের চালক জয়নাল বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকার পর ফেরিতে উঠতে পেরেছি। এতো সময় আটকে থাকায় যাত্রীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

কাভার্ডভ্যান চালক মো. ইউসুফ জানান, তিনি সাতক্ষীরা হতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। যাবেন ঢাকায়। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষায় আছেন ফেরির। 

দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল তত্ত্বাবধায়ক (টিএস) মোজাম্মেল হক জানান, গত বুধবার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনার পর থেকে সেখানে উদ্ধার অভিযানের কারণে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চালু রয়েছে শুধু ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটটি। শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। চাপ সামাল দিতে চারটি ফেরি বাড়ানো হয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত ১১টি ফেরি চলছিল। বর্তমানে ১৫টি ফেরি চলছে। যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি এড়াতে তারা কাজ করছেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।