গাজীপুরের শ্রীপুরে দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) নামের এক কারখানার তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধর এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাছির আহমেদ বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।
এর আগে বুধবার রাতে আট জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাত জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড কারখানার কাটিং সুপারভাইজার নাঈম আহম্মেদ লাভলু। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাইতপাড়া গ্রামের মৃত তাজউদ্দিনের ছেলে শাহিন (২০), শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের মৃত সুলতান উদ্দিন খানের ছেলে নয়ন খান (১৮), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরবন্দি গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে রবিন (২৪), একই গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪০), আজিম উদ্দিনের ছেলে মাহবুব আলম (৩৫), মৃত সুলতান উদ্দিন স্বপনের ছেলে ইমরান হাসান ইমন (৩০), দক্ষিণ ধনুয়ার ফারুক মিয়া (৩৮) এবং শরীফ (৩১)। এর মধ্যে শাহিন, নয়ন খান, রবিন, দুলাল মিয়া এবং মাহবুব আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বাদী নাঈম আহম্মেদ লাভলু বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার সহকর্মী অরুপ রতন শর্মা, মিঠুন এবং নিশাত ডিউটি শেষে কারখানা থেকে বের হন। আসামিরা তাদের কারখানার সামনে থেকে অপহরণ করে দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের এবাদত আলী খানের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে আমাদের কাছে এক লাখ মুক্তিপণ দাবি করেন তারা। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় তাদের মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আমি সহকর্মীদের উদ্ধারের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাকেও মারধরের চেষ্টা করেন। আমার মোটরসাইকেল রেখে দেন। তাদের কাছ থেকে কৌশলে চলে এসে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ মিঠুন, নিশাত ও অরুপ রতনকে উদ্ধার করে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের জখম থাকায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মামলার পর রাতেই মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’