গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের হুমকি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শতাধিক পরিবারের তিন শতাধিক নারী-পুরুষ। এ সময় তারা কয়েজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিচার দাবি করেন। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি এবং প্রশাসনের কাছে চাঁদাবাজদের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চেয়ে সহযোগিতা চান তারা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় গিলাশ্বর পশ্চিমপাড়া ভূমিহীন সমিতির উদ্যোগে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গিলাশ্বর পশ্চিম পাড়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।
অভিযুক্তরা হলেন- গিলাশ্বর পশ্চিমপাড়া ভূমিহীন সমিতির সভাপতি আজিজুল ইসলাম, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদের সহযোগী কলিম উদ্দিন (৪৫), রাশেদুল (৪৫), আজিজুল (৪০), মোর্শেদ (৩৫), হৃদয় (২৮), কবির হোসেন (৪০), হুমায়ুন (৫০) ও শামসুদ্দিন (৫৫)। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, এদের সহযোগিতা করছেন বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আক্তারুজ্জামান শামীম মোল্লা।
ভূমিহীন আব্দুল মান্নান এবং রইছ উদ্দিন জানান, গিলাশ্বর পশ্চিম পাড়া ভূমিহীন সমিতির অধীনে দেড়শ ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে। ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আক্তারুজ্জামান শামীমের সহযোগিতায় আজিজুল ইসলাম এবং মোর্শেদ ভূমিহীনদের উচ্ছেদের হুমকি দেন। নতুন কোনও ঘর কিংবা টয়লেট নির্মাণ করতে গেলেও চাঁদা দিতে হয়। চাহিদামতো চাঁদা না দিলে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এসবের প্রতিবাদ করলে মারধর এবং নির্যাতন করা হয়। তাদের অত্যাচারে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ভয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান, নজরুল ইসলাম, আসমা খাতুন, খোরশেদা, ফিরোজা, ফাতেমা বেগম বলেন, আমরা ভূমিহীন মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে এখানে কষ্ট করে থাকছি। শামীম মোল্লা ও তার লোকজন আমাদের ওপর জুলুম করছেন। টাকা ছাড়া এখানে খুঁটিও পোঁতা যায় না। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। তাদের হাত থেকে আমরা মুক্তি চাই। প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি এবং প্রশাসনের কাছে চাঁদাবাজদের অত্যাচার ও নির্যাতন বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই।
গিলাস্বর ভূমিহীন সমিতির সভাপতি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন বিএনপি গত ১০ দিন আগে তদন্ত করেছিল। তদন্ত করে তারা অভিযোগের কোনও সত্যতা পাননি। এরপরও তারা মানববন্ধন করেছে আজ।’
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আক্তারুজ্জামান শামীম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অভিযুক্তদের সহযোগিতা করছি না। আপনারা তদন্ত করে দেখেন। সামনে নির্বাচন করবো। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রনি মেম্বার তার লোকজনকে দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন।’