নারায়ণগঞ্জে প্রচারণার সময় ছাত্রদলের চারজনকে বেধড়ক পিটুনি


নারায়ণগঞ্জে প্রচারণার সময় ছাত্রদলের চারজনকে বেধড়ক পিটুনিনারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাহামুদুল হক আলমগীরের পক্ষে প্রচারণায় যাওয়ার কারণে ৪ ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুই দফা চারজনকে পিটিয়ে ব্যাপক জখম করা হয়।
তবে অভিযুক্তরা বলছেন, অভিযোগ সত্য না। এদিকে আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজানক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অপর দুজনকে নারায়ণগঞ্জ খানপুরে ৩০০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
জানা গেছে, এনায়েতনগরে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। নির্বাচনে তিনি থাকলে সংঘাত হতো সে আশঙ্কাতেই মূলত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সে আশঙ্কা শুক্রবার থেকেই প্রতিফলন ঘটছে।
প্রচারণায় অংশ নেওয়া ছাত্রদল নেতারা জানায়, শুক্রবার সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম  খন্দকার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২নং ও ৩নং ওয়ার্ড এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান। ওই সময় প্রচারণায় ছাত্রদল নেতা রাসেল মাহামুদের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করে বাচ্চু মিয়া, আকাশ, হযরত আলী ও মোহাম্মদ হোসেনসহ বেশকজন ছাত্রদল নেতা।

প্রচারণা শেষে শুক্রবার দুপুরে হযরত আলী ও মোহাম্মদ হোসেন বাসায় ফেরার পথে তাদের মুসলিমনগর এলাকায় পথরোধ করে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে আমজাদ, মোবারক, আলমগীর, হাসানসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক। পরে হযরত আলী ও হোসেনকে আটক করে একটি কক্ষে নিয়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিযে বেধড়ক মারধর করে। মারধর করে তাদের আহতাবস্থায় মুসলিম নগর টাওয়ার মাঠে ফেলে রেখে দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ওই ঘটনার পর শুক্রবার রাতে সোয়া ৮টায় ফতুল্লার বিসিক এলাকায় বাচ্চু মিয়া ও আকাশকে ধাওয়া করে আটক করে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই সময় আকাশ পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাচ্চু মিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় আহতদের নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুজনের পরিস্থিতি গুরুতর হলে তাদের ঢাকায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, সকালে ধানের শীষের পক্ষে আমি প্রচারণা চালিয়েছিলাম। পরে আমার সঙ্গে প্রচারণায় থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর নির্যাতন করা হয়েছে। ভোটের অধিকার তো নেই এখন ভোট চাওয়ার অধিকারও বন্ধ করার চেষ্টা।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। তবে একটি ঘটনার কথা শুনেছিলাম। আমি বিস্তারিত জেনে আপনাদের জানাবো। আমরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় আছি। হয়তো আমাদের বিরুদ্ধে এটা ষড়যন্ত্র।

/এএইচ/