ধামরাইয়ে প্রস্তুত অর্ধ লক্ষ কোরবানির পশু, উদ্বৃত্ত ১৭ হাজার

ঢাকার ধামরাইয়ে আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে প্রায় ৫১ হাজার ৫০৮টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানায়, ধামরাইয়ের প্রায় তিন শতাধিক খামারি এ বছর এক হাজার ২২৫টি গাভী ও বকনা গরু, ৩১ হাজার ৪৩টি ষাঁড়, ২৪০টি বলদ, ৪০টি মহিষ, ১৬ হাজার ৫৬০টি ছাগল এবং দুই হাজার ৪০০টি ভেড়া প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা সবমিলিয়ে ৩২ হাজার ৫৪৮টি।

তথ্য বলছে, ধামরাইয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১৭ হাজারের বেশি গরু ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের চাহিদা মেটাবে।

cow-bangla-tribune3

পশু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা বলছেন, এ বছর কোরবানিকে সামনে রেখে অনেকেই প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন ও মোটাতাজাকরণ করেছেন। শেষ সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সরেজমিনে কয়েকটি খামার ও প্রান্তিক কৃষকের গরু পালন করা কৃষকের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, গরুর গোসল, কাঁচা ঘাস সংগ্রহ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন পশু পালনকারীরা। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে জানান।

cow-bangla-tribune2

এ০বারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ২০টি গরু প্রস্তুত করেছেন ধামরাইয়ের খামারি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমাদের খামারে প্রায় ২০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। গাভীর বাছুরগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস ও কুড়া-ভুষি খাইয়ে বড় করেছি। এখন ব্যাপারিরা একেকটি গরুর দাম ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বলছেন। তবে আমি আশা করছি, দাম আরও বাড়বে।

ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধামরাইয়ে কোরবানির জন্য ৫১ হাজার ৫০৮টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় জাতের পাশাপাশি নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ান ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বাকি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে।