নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর–চাঁদপুর মহাসড়কে গাছ ও বাঁশের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সহস্রাধিক গ্রাহক ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে চরপাতা ইউনিয়নের গাছিরহাট এলাকায় এ বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।
অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, এতে মহাসড়কে চরম যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। এ সময় চাঁদপুরে যাওয়ার পথে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে আটকা পড়েন। পরে তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে রাত ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন স্থানীয় এমপি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। ঈদের দিনেও বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। টানা লোডশেডিংয়ে ঘরবাড়ির ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।
অবরোধের খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “এই উপজেলায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি। ঈদের দিনেও বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।”
এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারি বাড়িয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়েছে।
রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন জানান, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনের পাশাপাশি বহু স্থানে খুঁটি ভেঙে গেছে, তার ছিঁড়ে গেছে এবং ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।