ঈদুল আজহার প্রথম দিন থেকেই ঢাকার সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ব্যাপক পরিমাণ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামীকালও চামড়া আসার প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (২৯ মে) বেলা ১১টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে এসেছে চার লাখ ৯১ হাজার ৯৪৯টি কাঁচা চামড়া।
সরেজমিনে শিল্পনগরী ঘুরে দেখা গেছে, দিনভর ট্যানারিগুলোতে একের পর এক ট্রাকে করে চামড়া প্রবেশ করছে। শিল্পনগরীর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ট্যানারির ভেতর পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। চামড়া আনলোড, সংরক্ষণ ও লবণজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজুল মাইয়ান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মোট এক হাজার ৫২৯টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে এসেছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৯টি কাঁচা চামড়া। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৯টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ১৬ হাজার ৯০টি।
তিনি বলেন, শিল্পনগরীতে আসা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি।
শিল্প নগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বপালনরত কর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সর্বপ্রথম কোরবানির পশুর চামড়া বহনকারী একটি গাড়ি শিল্পনগরীতে প্রবেশ করে। এরপর সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে চামড়াবাহী ট্রাকের চাপ।
দিনের প্রথম ধাপে আসা চামড়ার বড় অংশই ছিল রক্তমাখা কাঁচা চামড়া। ট্যানারিতে পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা দ্রুত সেগুলোতে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন।
ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্যানারিতে আগে থেকেই বড় পরিমাণ চামড়া মজুত থাকলেও নতুন করে সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে পুরোদমে।
আজমীর লেদারের মালিক শহিদুল্লাহ বলেন, এ মৌসুমে তাদের প্রায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। মূলত দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই চামড়া নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর প্রায় এক কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। চামড়ার বড় পরিসরের বেচাকেনা সাধারণত রাতেই হয়ে থাকে। সে কারণে রাতভর শিল্পনগরীতে চামড়া প্রবেশ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।