প্রায় তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলামকে (২৬) তার বাবা-মা ও স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে পিবিআই-এর গাজীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (১০ জুন) বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা গ্রামের শরিফুল আলমের বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হারিয়ে যাওয়ার পর বাক প্রতিবন্ধী এই যুবককে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন শরিফুল আলম।
প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কিসমত আমোদাবাদ গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। আশ্রয়দাতা স্থানীয় চা দোকানি শরিফুল আলম শ্রীপুর উপজেলার মাওনা গ্রামের বাসিন্দা।
পিবিআই ক্রাইমসিন পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, গত সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৩টার দিকে মাওনা গ্রামের শরিফুল আলম গাজীপুর পিবিআইকে জানান, গত এক বছর ধরে অজ্ঞাত এক বাক প্রতিবন্ধী যুবক তার আশ্রয়ে রয়েছে। ওই প্রতিবন্ধী যুবক প্রায় এক বছর আগে তার চায়ের দোকানের সামনে এসে কান্না করতে থাকে। যুবকটি বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় শরিফুল তার কথা বুঝতে পারেননি। পরে দীর্ঘ এক বছর ধরে তাকে আশ্রয়ে রেখেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার ঠিকানা খুঁজতে থাকেন। প্রতিবন্ধী যুবকও প্রায়ই তার বাবা-মা ও স্বজনদের কাছে যাওয়ার জন্য কান্না করতেন।
এক পর্যায়ে আশ্রয়দাতা শরিফুল আলম স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের আইনি ঝামেলা এড়াতে গত ৩ জুন (বুধবার) শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৭৮) করেন। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন পিবিআই অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটন করতে পারে এবং বাক প্রতিবন্ধী যুবককে নিয়ে গাজীপুর পিবিআই কার্যালয়ে যান।
পিবিআই ক্রাইমসিনের পরিদর্শক শাহ কামাল ও এসআই জামিল উদ্দিন রাশেদ শনাক্তকরন মেশিনের মাধ্যমে তার পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করেন। পরে যুবকের গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করে তার বাবা-মার কাছে খবর পাঠানো হয়।
গাজীপুর পিবিআই এসআই জামিল উদ্দিন রাশেদ বলেন, প্রতিবন্ধী যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ তিন বছর আগে তাদের ছেলে শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হয়। তারা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বুধবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা গ্রামের আশ্রয়দাতা শরিফুল আলমের বাড়িতে পৌঁছে উপযুক্ত প্রমাণসহ তাদের নিখোঁজ হওয়া বাকপ্রতিবন্ধী ছেলেকে বাবা-মা ও স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। যুবক সংকেত ভাষায় জানায়, দীর্ঘদিন পর সে তার বাবা-মা ও স্বজনদের পেয়ে খুবই আনন্দিত।
পিবিআই পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই তার বাবা-মার কাছে তাকে হস্তান্তর করেছে।