তিন বছর পর ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৫আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৫

হবিগঞ্জে মুহিবুর রহমান (২৫) হত্যার প্রায় তিন বছর পর এর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার করা হয়েছে মামলার মূল আসামি ফজল মিয়াকে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হায়াতুন-নবী বলেন, দীর্ঘদিন ক্লুলেস হিসেবে বিবেচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে হত্যার বিবরণসহ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ২৭ জুন শিয়ালদাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবায় মুহিবুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আতর আলী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে ঘটনার দীর্ঘসময় পরও কোনও অগ্রগতি ছিল না। পরে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করলে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মামলার মূল আসামি ফজল মিয়াকে।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ফজল মিয়া হত্যার নেপথ্যের কারণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল্লাহর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফজল মিয়া জানান, বাবা সঞ্জব আলীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর শিন্নি অনুষ্ঠানে নিহতের বাবা আতর আলী প্রকাশ্যে তাকে অপমান করেন। পরে প্রতিবেশী মস্তুল মিয়ার সঙ্গে ১৫০০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে সালিশ বসে। সেখানে আতর আলী মস্তুলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফজল মিয়াকে ৩০০০ টাকা জরিমানা করেন এবং মস্তুলের পায়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও জানান, এর জেরে ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফজল মিয়া টিউবওয়েলের লোহার রড দিয়ে মুহিবুর রহমানকে আঘাত করে হত্যা করে এবং পরে লাশ চান মিয়ার ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়।

পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং হবিগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার হায়াতুন-নবীর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত পরিচালনা করেন এসআই পিযুষ কান্তি দেবনাথ। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ তিন বছর পর মামলায় অগ্রগতি ও রহস্য উদঘাটনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

/এফআর/
সম্পর্কিত
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম