নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার জনসহ ৫ জন দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার জনসহ পাঁচ জন দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকার মোস্তফা মিয়ার বাড়ির নিচতলার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

‎দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— দিনমজুর মান্নান (৫০), তার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৫), ছেলে সিয়াম (৯), মেয়ে মিম (১৩) ও প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮)।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ, শিশু সিয়ামের ৭৭ শতাংশ, মীমের ৪১ শতাংশ, মান্নানের ৩০ শতাংশ ও শিশু হযরত আলীর ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। সুলতানা ও সিয়ামের অবস্থা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জোন-২ এর উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, গত ১ জুন এই পরিবারটি চাঁনপুরের আক্তার হোসেনের বাসা ভাড়া নেন। এদিকে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস লিকেজ হয়ে রান্না ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে আনুমানিক সাড়ে ৬টায় ভাড়াটিয়া মান্নান মিয়ার স্ত্রী সুলতানা রান্নাঘরের দরজা ও জানালা না খুলে চুলায় আগুন জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ হয়ে হঠাৎ আগুন বাসার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই পরিবারের চার জন ও অন্য একটি পরিবারের এক শিশুসহ মোট পাঁচ জন দগ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, মান্নান পেশায় একজন দিনমজুর। তিনি এক কক্ষের ছোট একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন এবং ঘরের ভেতরই রান্নার ব্যবস্থা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। সকালে রান্না করার জন্য দিয়াশলাই জ্বালানো মাত্রই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘরে আগুন লেগে যায়। এতে পাঁচ জন দগ্ধ হন।