অভিযোগ-সমালোচনার মধ্যেই মানিকগঞ্জ থেকে বদলি প্রকৌশলী আজিজ

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খাঁন যোগদানের মাত্র ১ মাস ২৭ দিনের মাথায় স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন। তাকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বদলি কার্যকর করা হয়। আদেশে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৯ জুন থেকে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মানিকগঞ্জ পৌরসভায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের বিল সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা দাবি করতেন তিনি। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে বিল পরিশোধে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হতো।

সূত্র জানায়, পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েকটি প্রকল্পের বিল প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মে মাসে সিআরডিবি-২ প্রকল্পের ১১তম চলতি বিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিল অনুমোদিত হলেও শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়। ঠিকাদার পক্ষ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বিল থেকে ৯৯ লাখ টাকা বাদ দিয়ে ১ কোটি টাকার চেক ইস্যু করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পৌর ভবনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ ১৪ জুন মানিকগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উপস্থিতিতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পেশার লোকজন নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। এ সময় মন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেন। এর চার দিনের মাথায় তাকে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় বদলি করা হয়।

এদিকে, গত ১৪ জুন ক্ষুব্ধ পৌরবাসী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে পৌরসভার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরপর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

বিমানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়, জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় ‘মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রকল্প কাজে ধীরগতির বিষয়ে নির্দেশনার পরও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা জানান মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ খান। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সে সময় তিনি বলেন, আপনি যদি কাজ করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে মানিকগঞ্জে রেখে লাভ নেই। এর চার দিন পর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খাঁনকে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় বদলি করা হলো।’

এদিকে, পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খানের বিরুদ্ধেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নীরব সমর্থন বা সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বদলি প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খাঁন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিল পরিশোধের জন্য বিধি অনুযায়ী অফিসিয়াল নোট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসক নিজ বিবেচনায় ৯৯ লাখ টাকা স্থগিত রেখে ১ কোটি টাকার বিল পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে ঠিকাদারদের কাছে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, সরকারি ভাবে এখনো বদলির আদেশের কপি তার দফতরে এসে পৌঁছায়নি। তবে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুল আওয়াল বুলবুলের মাধ্যমে তিনি বদলি সংক্রান্ত একটি আদেশের কপি পেয়েছেন।