এমপির ছেলে আটকের পর বহিষ্কার, যুবদল বলছে অপকর্মের দায় নেবে না

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটকের পর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (দফতরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবকে প্রথামিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনও অপকর্মের দায় দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলো। 
 
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে বলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ পেয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

এর আগে বিকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খাইরুল ইসলাম সজীবের নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও হয়রানিসহ ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সজীবকে আটক করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএমপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আমরা তাকে নিয়ে এসেছিলাম। আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।’ 

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ আছে। তদন্তের স্বার্থে এগুলো বলা যাচ্ছে না। তার কাছ থেকে আমরা তথ্য নিয়েছি। এগুলো যাচাই-বাছাই করছি। তার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের কারও নাম বলছি না। আমাদের কাছে তার বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি অভিযোগ এসেছে। এছাড়া ঢাকায় তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ আছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি, হয়রানি, নারীঘটিত বিষয় এবং হুমকি উল্লেখযোগ্য। তবে সজীবের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করলেও এখনও মামলা করেননি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে চলমান কোনও মামলা নেই।’