গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলা ও ছুরিকাঘাতে সাইফুল্লাহ বারী নামে এক শিবির নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের এক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হন।
রবিবার (২১ জুন) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহত সাইফুল্লাহ বারী (২২) উপজেলার শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। আহত সালাহউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গত ১৬ জুন। ওই দিন স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুম কামাল সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ জানান, মাসুম জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র লাগবে। এ নিয়ে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা দেওয়ার ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ জানান, ওই ঘটনার জের ধরে রবিবার বিকালে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার সঙ্গে মাসুম কামালের সহযোগী বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা ও শিবিরকর্মী মোফাচ্ছের প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সেখানে উপস্থিত হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহউদ্দিন। তারাও প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে মুকুলের নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালান যুবদল নেতা মুকুল ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল, জব্বারসহ ১০-১২ জন। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় সাইফুল্লাহ এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিন দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেন। এর মধ্যে সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম জড়িত। তাদের নেতৃত্বে হামলা ও খুনের ঘটনা ঘটেছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় আশরাফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধান শিক্ষক গত ১৬ জুন লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন কিনা, সে বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই করে জানানো হবে। মূলত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।’
তবে হত্যার সঙ্গে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী।







