প্রথমবার রথ দেখতে এলাম, সবাই যাতে সুখে থাকতে পারে সেই কামনা করেছি

উল্টো টানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো ঢাকার ধামরাইয়ের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসব। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই ‘উল্টো রথ টান’ উৎসবে যোগ দেন হাজারো ভক্ত। রথ টান শেষ হলেও এই উপলক্ষে আয়োজিত মেলা চলবে মাসব্যাপী।

গত সপ্তাহে নিজের বাড়ি থেকে মাসির বাড়ি যাত্রার মধ্য দিয়ে রথযাত্রা শুরু হয়। শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে শুরু হওয়া রথ উৎসবের ৮ দিনের মাথায় আয়োজন হয় উল্টো রথ টান।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার কায়েতপাড়া রথখোলা এলাকায় আয়োজিত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শ্রী শ্রী যশোমাধবকে মাসির বাড়ি যাত্রাবাড়ী মন্দির থেকে টেনে নেওয়া হয় পূর্বের স্থান ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়া রথখোলায়। এই যাত্রায় নারী-পুরুষের ঢল নামে রাস্তায়। ভক্তরা রথের পথচলায় চিনি ও কলা ছিটিয়ে যশোমাধবের প্রতি ভক্তি নিবেদন করেন। রথযাত্রা ও মেলার উদ্বোধন করা হয়েছিল গত ১৬ জুলাই।

তিথিয়া ঘোষ নামে এক ভক্ত বলেন, “আমি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে এসেছি। প্রতি বছরই রথযাত্রার উৎসবে অংশ নেই। এবারো এসেছি। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় রথ ধর্মীয় অনুসঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে এটি আমাদের গৌরব ও ঐতিহ্যেরও। সবাই এখানে আনন্দ উল্লাস করে।”

মেঘনা দাস নামে অপর ভক্ত বলেন, “প্রথমবারের মতো ধামরাই রথ দেখতে এসেছি। রথ টানে আসতে পারিনি। তবে আজ এসেছি। অনেক ভালো লেগেছে। স্বামী ও সন্তানের মঙ্গল কামনা করেছি। ধর্ম-বর্ণ সবাই যাতে সুখে শান্তিতে ভালো ও সুখে থাকতে পারেন সেটি যশোমাধবের কাছে কামনা করেছি।”

রথযাত্রা শেষ হলেও জমজমাট হয়ে উঠেছে মেলাপ্রাঙ্গণ। ধামরাইয়ের পৌর এলাকায় মাসব্যাপী চলবে এই মেলা। বিভিন্ন খাবার, প্রসাধনী ও খেলনা সামগ্রীর প্রায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে মেলায়।

অর্পিতা সূত্রধর নামে এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন, “পরিবারের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে এসেছি। চুড়ি কিনেছি, আরও কেনাকাটা করবো। মেলায় বিভিন্ন ধরনের অনেক জিনিসপত্র উঠেছে।” রথ ও মেলায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখের পড়ার মতো বলেও জানান তিনি।

জগন্নাথ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “উল্টো রথ যাত্রার মধ্য দিয়ে এ বছর আমাদের রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটলো। আনন্দ ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা সুন্দর একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পেরেছি। আমি সব সুধী ভক্তকে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। যারা আমাদের এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, রথ তার পরিপূর্ণতা পেয়েছে। রথ শেষ হলেও মাসব্যাপী মেলা চলবে। এতে সবাইকে স্বাগত জানাই। এই রথযাত্রার মধ্য দিয়ে সুখী এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, যেখানে সবাই সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তিতে বসবাস করবে।”

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ধামরাই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা গত ১৬ জুলাই শুরু হয়েছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে এই উৎসব চলছে। উল্টোরথের মধ্য দিয়ে এর ইতি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।”