ফেরি থেকে মাঝ পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া নারীকে ফরিদপুরে জীবিত উদ্ধার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ফেরি থেকে মাঝ পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

চার ঘণ্টা পর রাজবাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের কবিরপুর চরের কিনারা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। 

উদ্ধারকৃত ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়াগামী ফেরি কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আমাদের জানালে আমরা নিশ্চিত হই। বর্তমানে তিনি স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে সুস্থ অবস্থায় আছেন এবং তার কাছে ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছেন। 

ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মা নদীতে থাকা কচুরিপানার সঙ্গে ভাসতে ভাসতে কবিরপুর চরে আটকে পড়েন ওই নারী। এ সময় স্থানীয়রা দেখে আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে হেফাজতে রাখি। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। আমরা তার বিষয়টি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি পুলিশকে জানিয়েছি।

ফেরি কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার বলেন, পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে তাদের ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝ নদীতে দৌলতদিয়ার লাল বয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, এক নারী ফেরির পেছন দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফেরিটি থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই এলাকায় আলো ফেলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং সংশ্লিষ্টদের সংবাদটি জানাই।

তিনি আরও বলেন, ওই নারী ফেরিতে একাই ছিলেন। তার সঙ্গে অন্য কোনও যাত্রী বা স্বজন ছিলেন না বলে ফেরির অন্যান্য যাত্রীরা জানিয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ফেরিতে থাকা হকার মিলন শেখ জানান, তিনি ফেরির নিচতলায় ঝালমুড়ি বিক্রি করার সময় ওই নারীকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখেন। একপর্যায়ে তিনি উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে হঠাৎ নদীতে ঝাঁপ দেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।