ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কায় বাস-মাহিন্দ্র-অটোরিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেলো ২ জনের

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুরে তেলবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুমড়ে-মুচড়ে যায় বাস, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্র।

নিহতরা হলেন– বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি। তারা মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেলবাহী ট্রেনটি আসার খবর পেয়ে খানখানাপুর রেলগেটের গেটম্যান রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার নামিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। তবে ট্রেনের পেছনের গার্ড ব্রেকসহ ছয়টি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কিছুটা দূরে ধীরগতিতে এগিয়ে আসছিল। বিষয়টি বুঝতে না পেরে গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে অপেক্ষমাণ যাত্রীবাহী বাস, ইজিবাইক ও মাহিন্দ্র রেলক্রসিং পার হতে শুরু করে। এ সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো ওই যানবাহনে ধাক্কা দিলে বিকট শব্দ হয়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। স্থানীয় ও উদ্ধারকারীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

রাজবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার তন্বয় দত্ত জানান, ফরিদপুরের আমিরাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহ শেষে ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলক্রসিং এলাকায় গার্ড ব্রেকসহ ছয়টি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন (কাটিং) হয়ে যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে বগিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এবং রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্ঘটনা কবলিক বাসটি মহাসড়ক থেকে সরানো হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মুরাদ হাসান জানান, বাসটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আমরা শুনেছি দুই জন যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।