সৎমায়ের পর এবার নিজের মাকেও কুপিয়ে হত্যা ছেলের

ফরিদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ১০ বছর আগে সৎমাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমান রহমত মোল্যার ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকাল ৫টার দিকে লাশ উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। নিহত সামেলা বেগম (৬০) ওই এলাকার মৃত শেখ আকবরের স্ত্রী। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে এবং ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাহিম শেখ মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত হওয়ায় মাঝেমধ্যে তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো এবং কয়েকদিন আগেও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। আজ দুপুরে বাড়িতে মা সামেলা বেগমকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। এতে তার মগজ বেরিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

প্রতিবেশীরা জানান, ২০১৬ সালে সৎমাকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন রাহিম। ওই ঘটনায় প্রায় ছয় বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে তার বাবা তাকে জামিনে বের করে আনেন। এরপরও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ ছাড়া তার থাকার ঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।

নিহতের মেয়ে কাকুলী আক্তার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে কাজে চলে যাই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হতো। আমি যখন বেরিয়ে যাই তখন সে ওই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। দুপুরে মাকে মেরে ফেলেছে শুনে বাড়িতে ছুটে আসি।’

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিজের ছেলে তার মাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে গেছে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পাই। অভিযুক্ত ছেলের থাকার ঘরেও মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, সেটিকে আমরা আলামত হিসেবে জব্দ করেছি। এ ছাড়া তাকে আটকে অভিযান শুরু হয়েছে।’